বাংলাদেশের পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা ছাড়া ঘুরা যায়  ৪২টি দেশে 

 

ভ্রমণ করতে কার না ভালো লাগে। ভ্রমণ পিপাসুরা দেশ-বিদেশ ঘুরতে চাইবেন এটাই স্বাভাবিক। কমবেশি সবারই দূরে কোথাও ঘুরে আসতে ভীষণ ভালো লাগে। এ ক্ষেত্রে একদিকে যেমন প্রকৃতির খুব কাছাকাছি থাকা যায়, তেমনি বাড়ে জ্ঞানের ভান্ডারও। নিজ দেশের পাশাপাশি অনেকেই বিদেশের মাটিতে ভ্রমণ করতে চান। 

 

তবে সাধ বা সাধ্য কিংবা পাসপোর্ট আর ভিসার ঝক্কি-ঝামেলার কারণে অনেকেরই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও বিদেশ ভ্রমণ করা হয়ে ওঠে না। যারা ভ্রমণে একেবারেই নতুন, তারাও দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চাইলে জেনে নিতে পারেন বিশেষ কিছু তথ্য। কারণ, দেশের বাইরে ঘুরে আসতে চাইলে বাংলাদেশি পর্যটকদের অনেক দেশেই ভিসার প্রয়োজন হয় না।

 

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ওয়েবসাইটে বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচক-২০২৪ এ ১০৪টি দেশের সূচক প্রকাশ করা হয়েছে। এতে শক্তিশালী পাসপোর্টের দিক থেকে

 

৯৭তম স্থানে উঠে আসে বাংলাদেশের নাম। 

 

কোনো দেশের পাসপোর্টধারীরা আগাম ভিসা ছাড়াই কতটি দেশে যেতে পারে তার ওপর ভিত্তি করে এই সূচকে অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। সূচকের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা এখন আগাম ভিসা ছাড়া বিশ্বের ৪২টি দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণ করতে পারেন।

 

আগাম ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিদের ভ্রমণের এই তালিকায় আছে এশিয়ার ৫টি দেশ। এ ছাড়া আছে দক্ষিণ আমেরিকার ২টি, আফ্রিকার ১৬টি, ক্যারিবীয় ১১টি ও ওশেনিয়ার ৮টি দেশ ও অঞ্চল। এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে (এক তারকাচিহ্নিত) অন অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা পান বাংলাদেশিরা। শ্রীলঙ্কা ও কেনিয়ার (দুই তারকাচিহ্নিত) ক্ষেত্রে নিতে হবে ই-ভিসা। 

 

চলুন, জেনে নেওয়া যাক এসব দেশের নাম-

 

এশিয়া

 

তালিকায় এশিয়া মহাদেশের দেশের সংখ্যা পাঁচটি। এগুলো হলো ভুটান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও পূর্ব তিমুর। এগুলোর মধ্যে পূর্ব তিমুর, নেপাল ও মালদ্বীপে বিমানবন্দরে অন অ্যারাইভাল ভিসা মিলবে অনায়াসে।

 

তবে ঘোরার জন্য এশিয়ার এই পাঁচ দেশই আদর্শ। ভুটানের দূষণমুক্ত বাতাসে ঘুরতে ঘুরতে পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখার মজাই আলাদা। একবার সেখানে পৌঁছে গেলে আর আসতে মন চাইবে না। সাধারণ পর্যটকদের প্রিয় গন্তব্য রাজধানী থিম্পু, পারো, পুনাখার মতো জায়গাগুলি। এসব জায়গায় যে পাহাড়ি নদীগুলো পাবেন সেগুলোর সৌন্দর্যে আপনি মোহিত হবেন। থিম্পুর বুদ্ধ পয়েন্টের বিশাল বুদ্ধ মূর্তি আর সেখান থেকে দেখা পাহাড়ের দৃশ্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। জিগমে দর্জি ন্যাশনাল পার্ক আবার বাঘের আস্তানা হিসেবে সুপরিচিত । পারোর কাছে অবস্থিত টাইগার নেস্ট বিশেষ করে যারা ট্র্যাকিং করেন তাঁদের পছন্দের তালিকায় ওপরের দিকে থাকে। এছাড়াও পুনাখার ঝুলন্ত সেতুও দেখার মতো। 

 

 Source: Google

 

নেপালে গেলে পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন নাগরকোট, পোখারায়। ভোরে এই দুই জায়গা থেকেই দেখবেন হিমালয়ের তুষার ধবল সব চূড়া। ফেলুদার যত কাণ্ড কাঠমান্ডু যারা পড়েছেন তাঁরা দেশটির রাজধানী শহর কাঠমান্ডুতে দুটি দিন নিশ্চিতভাবে কাটাতে চাইবেন। আবার চিতওয়ানের জঙ্গলে হাতির পিঠে চড়ে দর্শন পাবেন গন্ডারের।

 

সাগর যারা ভালোবাসেন তাঁরা অবশ্য মালদ্বীপ ভ্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। শ্রীলঙ্কায় সাগর, পাহাড়, বন্যপ্রাণী, মন্দির, দুর্গ, চা বাগান মোটামুটি সবকিছুই পাবেন। এদিকে মাত্র ১৫ হাজার বর্গ কিলোমিটারের পূর্ব তিমুরে পর্যটকের তেমন যাওয়া-আসা শুরু না হলেও এখানকার সাগর সৈকত, পাহাড়ের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলেও যেতে পারেন। তেমনি স্কুবা ডাইভিং করে সাগর তলের আশ্চর্য জগৎও দেখতে পারবেন সেখানে। 

 

ক্যারিবীয় অঞ্চল

 

ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপরাষ্ট্রের খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল আমাদের কাছে বেশ পরিচিত হলেও ওই অঞ্চলে দেখার মতো কী আছে সে সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই। অথচ ভ্রমণ গন্তব্য হিসেবে এখানকার দ্বীপ দেশগুলো অসাধারণ। আশ্চর্য সুন্দর সাগর সৈকত, নানা পদের খাবার, উৎসব সবকিছু মিলিয়ে সেখানে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়।

 

শুনে খুশি হবেন ওই অঞ্চলের বাহামা, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বার্বাডোজ, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, মনটসেরাট, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্র্যানাডাইনস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মতো জায়গাগুলো ঘুরে আসতে কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের। আরেকটি কথা, বিখ্যাত ক্রিকেটার ব্রায়ান লারার বাড়ি কিন্তু ত্রিনিদাদে।

Source: Google

 

ওশেনিয়া

 

ওশেনিয়ার সাতটি দেশেও ভিসামুক্ত কিংবা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ঘুরে আসার সুযোগ পান বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা। এগুলো হলো কুক আইল্যান্ড, ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নিউ, সামোয়া, ট্যুভালু আর ভানুয়াতু। এ সব দেশও বিখ্যাত বৈচিত্র্যময় সব সাগরসৈকতের জন্য।

 

লিস্টে ওপরের দিকে রাখতে পারেন ভানুয়াতুকে। বলা চলে রোমাঞ্চকর বাঞ্জি লাফ এসেছে এখান থেকেই। মানে ভানুয়াতু দ্বীপপুঞ্জের এক দ্বীপের বাসিন্দারা শত শত বছর আগ থেকেই এর চেয়ে দুঃসাহসী লাফের কীর্তি করে আসছেন। কাজেই আগে থেকে এ বছর প্রতিযোগিতাটা কখন হবে জেনে হাজির হয়ে যেতে পারেন সেখানে। বুঝবেন বাঞ্জি লাফ আর কী, এর চেয়ে ঢের রোমাঞ্চকর ভা

নুয়াতুর এই লাফ।

Source: Google

 

দক্ষিণ আমেরিকা

 

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের প্রতি আমাদের দেশের ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বেশি। তবে এই দুই দেশে নয় বরং এই মহাদেশের একমাত্র বলিভিয়ায়ই অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ আছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট নিয়ে। এই দেশটিতে ভ্রমণ করার মতো জায়গার অভাব নেই।

 

বিখ্যাত টিটিকাকা হ্রদ, লবণ জমাট বেধে তৈরি হওয়া সমতল সালার দি ওইয়ুনি, পৃথিবীর উচ্চতম রাজধানী লা পাজ সহ দেখার আরও কত কী আছে এখানে!!!

 

আফ্রিকা

 

এই মহাদেশের যে ১৬টি দেশে ভিসামুক্ত বা অন অ্যারাইভাল ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ পাচ্ছেন সেগুলো হলো বুরুন্ডি, ক্যাপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, গিনি-বিসাউ, লেসেথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সিসিলিস, সিয়েরালিওন, সোমালিয়া, গাম্বিয়া, টোগো ও উগান্ডা। এর মধ্যে বিশেষভাবে বলতে হয় মাদাগাস্কারের নাম।

Source:Google

 

বাংলাদেশী পাসপোর্ট দিয়ে ভিসা অন-অ্যারাইভালের জন্য আবেদন করার জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন?

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *